আদিমকাল থেকেই নেতৃত্ব নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখে এসেছি। সে প্রতিযোগিতা কখনো অহিংস আবার কখনো সহিংসতার, ব্যক্তি লালসার রূপ লাভ করেছিল। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় আপন যোগ্যতা, সফলতা তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা আর নেতা তকমা অর্জন করাই হলো তাদের মূখ্য বিষয়।
সমাজবদ্ধ মানুষের এই সমাজ পরিচালনার জন্য সব সময়ই কিছু মানুষকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়। আদিম সমাজেও মানুষের একজন নেতা থাকত যে তাদের নেতৃত্ব প্রদান করত। তবে তখন নেতা নির্বাচন পদ্ধতি ছিল অন্য রকম। গোত্র প্রথা ছিল বিধায় গোত্রের সবচেয়ে বায়োজ্যেষ্ট এবং সবচেয়ে বিচক্ষণ ব্যাক্তিকেই গোত্রপতি নির্বাচন করা হতো। সেই থেকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের উৎপত্তি।
আমরা দেখেছি বিভিন্ন ধরণের রাষ্ট্রের উৎপত্তি হলো। কোন রাষ্ট্র রাজতান্ত্রিক, কোনটা আবার গণতান্ত্রিক। প্রত্যেক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যও নেতৃত্ব দানকারী গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। কোন কোন রাষ্ট্রের নেতা সে রাষ্ট্রের জনগণ নির্বাচন করে আবার কোন রাষ্ট্রের নেতা বংশানুক্রমিকভাবে নির্বাচিত হয়। শুধু রাষ্ট্র নয় পরিবার থেকে শুরু করে আমাদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।
সঠিক নেতৃত্বের ফলে যে কোন দেশ যে কোন সমাজ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এগিয়ে যায়। আবার ভুল নেতৃত্ব সমাজকে ধ্বংশের অতল গহ্বরে নিয়ে যায়। এই নেতৃত্ব নিয়েই যুগে যুগে অনেক রক্তের ইতিহাস রচিত হয়েছে। ভুল নেতৃত্বে কোন জাতিকে বা গোষ্ঠীকে ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে যুগের পর যুগ।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ধরে হিসেবে করলেও মধুপুরে সফল নেতৃত্বের অংক কোনভাবেই মেলে না। অদ্যাবধি সে নজির নেই। অতএব, হলফ করে বলতে পারি মধুপুরে ভুল নেতৃত্বের ইতিহাস রচিত হয়েছে। ভুল নেতৃত্ব, গড়মিল অংকই মধুপুরবাসীকে দেখতে হচ্ছে। একের পর এক নেতৃত্বের গড়মিল ইতিহাস গড়ে যাচ্ছে। ভুল নেতৃত্বের পরও তাদের নেতৃত্বের খায়েস যায় না। ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। ভুলে ভরা রাজনীতি, ভুল নেতৃত্বের হিস্যা আর কত দিন দেখতে হবে মধুপুরবাসীকে?
মধুপুরে যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। যে অর্থ আর ক্ষমতার মোহে জাতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যাবেন না। আদিকালে নেতৃত্বের প্রতি মোহ ছিল না। ছিল না তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার লোভ। সে কারণে সাধারণ মানুষ নেতাদের অনুসরণ করেছেন প্রকৃতভাবেই। একজন ত্যাগী নেতা জনগণের নগন্য সেবক মনে করতেন নিজেদের এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যেতেন।
গারো জাতিসত্তার তো তখন থেকেই শুরু হলো যখন তাদের মনে অর্থ, নেতৃত্বের অন্ধ মোহ প্রবেশ করলো। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ, ক্ষমতা বিলাসীতায় মত্ত হয়ে জনগণের সেবক না হয়ে জনগণের অযাচিত প্রভু বনে গেলেন। সে সময় থেকেই জনগণ এবং নেতৃশ্রেণীর মানুষের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হলো। অযোগ্য ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে জাতি, জাতিগত সংগঠনের মধ্যে ভাঙ্গন, বিভাজন, বিভক্ত শুরু হয়েছে। ব্যক্তি সম্পদ আর নেতৃত্বের মোহই আজ আমাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা, আর অর্থের নেশায় বূধ হয়ে আছে গারো সমাজের নেতৃত্ব। যা থেকে উত্তরণের পথ বের করা কঠিন হলেও গারো জনজাতিকে সে পথ খুঁজে বের করতেই হবে।
রাজনীতি, নেতৃত্বে অসম্ভব বলে কিছু নেই ! এই রাজনীতি, নেতা, এবং নেতৃত্বের সূচক বদলাতে জনগণই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে। আপনার প্রয়োজনে আপনাকেই এই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। সে সময় এসে গেছে, এবং কাল ক্ষেপণ করার সময় আর নেই। সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ইমপিচমেন্টের ব্যবস্থা করুন, অথবা যেকোন নির্বাচনে গোপন ভোটের ব্যালটে তাদের বর্জন করুন, তাদের রুখে দিন এবং তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করুন। মধুপুরবাসী তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ভুল নেতৃত্ব বিপর্যয় থেকে মধুপুরবাসীকে মুক্তি দিন।