আজকাল ব্যাপক উদ্বিগ্ন তরুণ সমাজ। এর মূল কারণ হলো আমরা পড়াশুনার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি করি না। নিজে এবং যথা স্থানে কাজের সন্ধান করি না। চলমান সিচুয়েশানকে জানার এবং বুঝার চেষ্টা করি না। ইন্টারনেটকে বা তথ্য প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারি না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনি যদি কাজের খোঁজে নানা সুযোগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতেন, দেশ–বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে শুরু করতেন, তাহলে সে সুযোগ আপনি অবশ্যই পেতেন। ফেবু আরও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক বিতর্ক, চ্যাট, লাইভ সম্প্রচার করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে না মানুষের ব্যক্তি জীবনে।

আপনি যদি সামাজিক গণমাধ্যমকে যথাযথ ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই খোঁজে পাবেন অর্থ উপার্জনের উৎস। সকল পেশাজীবীদের জন্য এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আর কাজের সুযোগসন্ধানীদের জন্য ‘নেটওয়ার্ক’ তৈরি করার সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম। জরিপ বলছে, তরুণেরা প্রতিদিন গড়ে ৮৭ মিনিট সময় ব্যয় করেন ইন্টারনেটে। প্রতিদিন এই ৮৭ মিনিটের মধ্যে ১০ মিনিটও যদি আত্মোন্নয়নে কাজে লাগানো যেত, তরুণেরা যদি ইন্টারনেটের শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন দক্ষতা রপ্ত করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই উদ্বিগ্ন তরুণদের নিয়ে আমাদের উদ্বেগ অনেকটা কমে যেত।

বাংলাদেশের কোথায় নেই তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের সুফল পৌঁছে যাচ্ছে বেশ দ্রুত। কিন্তু ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমরা বোধ হয় একটু দেরি করে ফেলছি।

আরও আশার কথা হলো, এখন সরকারিভাবে মানুষকে ইন্টারনেটের ব্যবহার–আদবকেতা শেখাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলোও বিভিন্ন ক্যাম্পেইন আয়োজন করে যাচ্ছে।

আমার কথা হলো ইন্টারনেট সঠিক ব্যবহারে আপনাকে কেউ উৎসাহ দিবে না, প্রতিষ্ঠানিকভাবে, হাতে কলমে কেউ শেখাবে না। কর্মসংস্থানের কথা যদি চিন্তা করে থাকেন তাহলে নিজ থেকে এবং নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। অসম্ভব কাজ আপনাকে দিয়েই শুরু করতে হবে। ইন্টারনেটে, বা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনেক ব্লাব আসতে পারে। কিন্ত আপনি একটু যদি সচেতন হন, তাহলে সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। অর্থাৎ ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখার, থাকার কোনো উপায় নেই; বরং ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার শেখা উচিত।

তথ্য প্রযুক্তি সঠিক ব্যবহার করে আপনি ঘরে বসে কিভাবে এবং কোন প্ল্যাটফর্মে অর্থ উপার্জন বা আয়ের উৎস সৃষ্টি করতে পারেন, আর সেগুলা হলো- ১) গুগল এডসেন্স, ২) এফিলিয়েত মার্কেটিং, ৩) কনসালটিং, ৪) অনলাই কোর্স, ৫) পডকাস্টিং, ৬) বুক সেলস, ৭) লিড সেলস, ৮) ফ্রিল্যান্স রাইটিং, ৯) স্পন্সর পোস্টস, ১০) ওয়েবিনারস, ১১) ইউটিউব এবং ১২) ফ্রিল্যান্সিং… ইত্যাদি।

একজন ভালো মানুষের সৃষ্টিশীল কর্ম তার পছন্দ–রুচিরই একটি অংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সবাই পারে না। কিন্ত আপনার অদম্য প্রচেষ্টা যদি থাকে তাহলে তা সম্ভব। তাই বলি নিজেকে বদলানোর তাগিদটা ভেতর থেকে অনুভব করতে হবে। পৃথিবীতে যত কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে, প্রতিটিরই ভালো–মন্দ দিক আছে। দিন শেষে ভালো–মন্দ নিজের ভেতরে; ইন্টারনেট, ফেসবুকে বা ইউটিউব নয়। মন্দের বুকে বিচরণ করে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারা, স্বাধীনভাবে কর্মসংস্থান করে মাথা উঁচু করতে পারার ব্যাপারটি অনেক উঁচু মানের, এবং গর্বেরও বিষয় বৈকি!

লুই সাংমা, ফ্রান্স
ওয়েভ ডেভেলপার, ব্লগার, ফ্রিল্যান্সার এবং সাংস্কৃতিক কর্মী