আ.বিমা টাইমস ডেস্ক রিপোর্ট, মধুপুর: আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) সকাল ১০:৩০ মিনিটে বাসন্তী রেমা’র কলাবাগান কর্তনসহ মধুপুর গড়াঞ্চলে ইকোপার্ক-ইকো ট্যুরিজম, রিজার্ভ ফরেস্ট ও সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে গড়াঞ্চলের বিক্ষুদ্ধ আদিবাসী জনতা। দাবি পূরণে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশটি ভুটিয়া বাজার (গারো বাজার) মোড় থেকে শুরু হয়ে দোখলা রেঞ্জ অফিস প্রদক্ষিণ করে দোখলা বাজার প্রধান সড়কে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাসন্তী রেমার কলা বাগান কর্তনের মধ্য দিয়ে মধুপুর গড় এলাকায় বন বিভাগের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে মিমাংসার জন্য পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুয়ায়ী আজকে (১৬ সেপ্টেম্বর) বাসন্তী রেমা এবং এলাকাবাসীর সাথে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বসার কথা ছিলো। কিন্তু বিশেষ কারণবশত দিনটির পরিবর্তে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মিমাংসার তারিখ পুন:রায় ধার্য করেন বন বিভাগ।

প্রতিবাদ সমাবেশে গারো আদিবাসী নেতা অজয় এ. মৃ বলেন, আমরা ১৯৬২ সাল থেকে গড়াঞ্চলে এবং এই দোখলাতে লাড়াই সংগ্রাম করে আসছি। আজোও আমরা দাবি করে আসছি এবং সেই অধিকার আমাদের আছে। আমরা এখানেই যুগ যুগ ধরে বসবাস করতেছি। বক্তব্যে তিনি বন বিভাগকে প্রশ্ন করেন, বন বিভাগ কত সালে আসছে? বনের রেকর্ডনুযায়ী ১৯২৭ সালে বন আইন হয়েছে। কিন্তু এখানে আদিবাসীরা শত শত বছর আগে থেকেই বসবাস করছে। তাহলে এবার আপনারাই বলুন কে আগে- বন বিভাগ; গড়াঞ্চলের আদিবাসী? তাহলে কেনইবা অত্যাচার করতেছেন? তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন, বনের ভেতর শত শত একর জায়গা দখল করে আছে অ-আদিবাসী এবং দিব্যে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে; তাদের (অ-আদিবাসী) গাছ না কেটে, আবাদী জমি দখল না করে শুধু কেন আদিবাসীদের আবাদী ফসল কাটা হয়, কেন তাদের ভোগ দখলি জমি বন বিভাগ দখল করে?

এছাড়াও গড়াঞ্চলের (১১ নং শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ) চেয়ারম্যান জনাব আক্তার হোসেন বিক্ষোভ সমাবেশের সাথে একাত্বতা পোষণ করে বলেন, পুন:নির্ধারিত অর্থাৎ আগামী ২৪ তারিখের আগে আপনারা কোনো কিছু করবেন না। নির্ধারিত দিনে ঘটনাটির মিমাংসা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে; যদি মিমাংসা না হয় তাহলে এরপর আপনারা যে কর্মসূচি দেবেন আমরা আছি এবং আপনাদের সঙ্গে থাকবো।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সহ-সভাপতি রিচার্ড বিপ্লব সিমসাং-এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নারী নেত্রী যষ্টিনা নকরেক (মধুপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান), হেলিন যেত্রা, হেরিৎ সিমসাং, মধুপুর উপজেলা শাখার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, নিউটন মাজি, গারো সংগঠনের ছাত্র নেতা এবং এলাকাবাসী। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ছাত্রনেতা জন যেত্রা (সভাপতি, বাগাছাস)।

সমাবেশে বক্তারা বন বিভাগকে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ তারিখে বাসন্তী রেমার কলাবাগান কর্তনের সুষ্ঠ মিমাংসা না হলে সাতদিনের আল্টিমেটাম; অন্যথায় টাংগাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।

সমাবেশটি আয়োজন করেন মধুপুর গড়াঞ্চলের বিক্ষুদ্ধ আদিবাসী জনতা।