আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: আগামী ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবস উপলক্ষে টেলিভিশন টকশোতে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার না করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনার নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের আদিবাসী যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বিভিন্ন আদিবাসী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার নিন্দা জানানোসহ ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করেন।

ঢাকায় আদিবাসী বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ সমাবেশ, ছবি: অলিক মৃ

আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই বলেন, “আমি কী নামে পরিচয় দিবো সেটা আমি নির্ধারণ করবো, আপনারা তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। আমরা নিজেদের আদিবাসী পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বাংলাদেশে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর বাইরে চাকমা, মারমা, গারোসহ ৫৪টি জাতিগোষ্ঠী বাস করে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রথা রয়েছে।

অনন্ত বলেন, “২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তারা তখন বলেছিলেন ক্ষমতায় এলে আমাদের স্বীকৃতি দেবেন এবং আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। কিন্তু আজকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আমাদের অপমান করা হয়েছে।”

আদিবাসী যুব ফোরাম’র সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান বলেন, “বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণের মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার হরণ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ১৩ বছর অতিক্রম করছে কিন্তু আদিবাসীদেরকে দেওয়া কোনো ওয়াদা পূরণ করে নাই। দিনের পর দিন এই সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ লক্ষ্য করছি।” তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কিভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকে নির্দেশনা দেন আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার জন্য।

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, “আপনারা আমাদের উপজাতি বলছেন। আমরা সংখ্যায় কম বলে ক্ষুদ্র বলছেন। নদীর উপনদী থাকতে পারে, গাছের শাখা-প্রশাখা থাকতে পারে, কিন্তু জাতির কখনও উপজাত বা শাখা থাকতে পারে না।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আদিবাসীদের জাতিগত পরিচয় কেড়ে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলা হয়েছিলো সকলের সমান অধিকার হবে। কিন্তু সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে।”

আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’র সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ’র সঞ্চালনায় ও আদিবাসী যুব ফোরাম’র সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই এর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন’র সহ সভাপতি মিঠুন কোচ; মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি উক্যয়া মারমা; গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি সতীর্থ চিরান; বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ডন জেত্রা; ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের অর্থ সম্পাদক জয়ন্ত ত্রিপুরা প্রমুখ।

গত ১৯ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখার উপসচিব শেখ শামছুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, “বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ছোট ছোট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

“এ অবস্থায় আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত টক শোতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের অন্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার না করার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে প্রচারের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”

২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ২৩(ক) ধারায় সংস্কৃতি সংক্রান্ত একটি অনুচ্ছেদ সংযোজন করে বলা হয়, “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”