এক.

প্রয়োজনহীন ভেবে অনেকদিন আমার দৃষ্টি ছিল না মুগ্ধতা

আজ ক’দিন হলো শুধু তোমার কথাই ভাবছি; সত্যিই ভাবছি৷

ধরেই নিয়েছিলেম, তোমার কথা আর কোনদিন ভাববো না,

জানতে চাইবো না-কোথায়, কেমন, কিভাবে আছো…।

 

মুগ্ধতা, জানি তোমার আবদার কোনদিন আমি রাখতে পারি নি,

রেখেছিলেম নিজেকে আলাদা করেই, নিছক প্রয়োজনহীন ভেবে

অথচ দিয়েছে আমায় না চাওয়ার অনেক, সুখের অনেক কিছুই।

 

তুমি সর্বস্ব বাজি রেখে চেষ্টা করতে আমায় সুখী করতে,

কেন জানি, তোমার ভালোবাসা কোনদিনই পৌছায় নি মনে,

হয় নি অনেক কিছুই, ভাবি নি- তুমি কতটা নিঃস্ব, অসহায়৷

আজ বহুদূরে গভীর নিদ্রায় তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি-

মুগ্ধতা আজও জীবনের যত ভুল অনেক যত্নে তুলে রেখেছে,

আমায় কোন একদিন বলবে বলে।

 

গভীর স্বপ্নে মুগ্ধতা বলছে-

‘আমি তোমাকে যা দিয়েছি অনেক আপন ও ভালোবেসে

দিয়েছি’ ইত্যাদি, আরো ভুলে যাওয়া কত কথা, এলোমেলো।

স্বপ্ন দেখে মুগ্ধতার কথায় অবচেতন মন কেমন যেন শিউরে ওঠে,

তার কথা ভেবেই জীবনের জীর্ণ পাতাটি উল্টে দেই, চিরতরে৷

 

দুই.

মুগ্ধতা, বিশ্বাস কর, আমি তোমাকে কোন দিনই বাধ্য করি নি

ভালোলাগা নিজের অজান্তে করেছিলো- এক সুমন্ত্রণার স্পন্দন

অবিরত, ভরা নদীর বুকে চুয়ে চুয়ে জল গড়িয়ে যাওয়ার মতোন৷

 

এক সময় মনে হতো, একফোটা নিঃশ্বাস নিতেও সময় হয় নি,

হয় নি প্রিয় অনেক কিছুই; দিনে বা রাতে খাওয়া, ঘুম ইত্যাদি৷

মুগ্ধতার কাছে ‘না’ শব্দটা একেবারে অপ্রিয় হয়ে উঠেছিল

হৃদ্যতায় দিন দিন প্রিয় হয়ে উঠেছিল ঐ ‘প্রতীক্ষা’ শব্দটা৷

 

মুগ্ধতার মনাকাশে রংধনু উঁকি দেয় সরাবেলা নীরবে নিভৃতিতে

ঐ ছড়ানো রঙিন রংধনু মমতা আমায় কি আবেশেই জড়াতো

পরিশ্রান্ত দেহে স্বস্তি ফিরে পেতাম এককাপ গরম চা পানের মতো৷

 

মুগ্ধতার নিজস্ব বিশেষ পছন্দ আছে বলে আমার জানা নেই,

‘সীমাবদ্ধতা’ শব্দটা দারুণভাবে লালন করতে তুমি, কখনো

নিজ অধিকার বলে কিছুই চাইতে না, কি আশ্চর্য মেয়ে তুমি!

শোয়ার ঘরে ছাদ ফোটা করে বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়লেও

কোন কঠিন অভিযোগ নেই, অহংয়ের ছাপ পড়ে নি কখনো।

 

জীবন জীবিকার কথা ভেবে আজ আমি অচিন দেশের পাখি

মনে পরে ভালো মন্দ লাগার শত কথা, তবু জীবনের কথা বাকী

দু’ধারে বসবাস, মাঝখানে বয়ে চলে গন্তব্যহীন খড়স্রোতা নদী

ভাবতে ভাবতে অনেক বেলা হলো মুগ্ধতা! নেই সূর্য্যস্নানের ঋণ

যাব তোমায় নিয়ে, আবার সুখ স্বপ্নে পাড়ি দেবো কোন একদিন৷

 

তিন.

মুগ্ধতা, এক পাহাড়ের কষ্ট চল না ভাগাভাগি করে নিই

অথবা শান্ত সমুদ্রের স্নিগ্ধ ভালোলাগার না বলা কথা যত-

উত্তর দক্ষিণ যেদিক খুশি নিও, সত্যিই তুমি নিবে তো?

 

তুমিও জানো মুগ্ধতা- ইতিহাস বলে, চীনের দুঃখ হুয়াংহো নদী,

তেমনই আমাদের জীবনেও দুঃখ সুখ এসেছে নিরবধি।

রাতভর জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে একফোটা শিশিরের জন্ম

শিশির ফোটা তৃষ্ণার্ত মাটি ভোগ করে, কেউ ভাবতে পারো?

ধরে নাও যা তোমার ছিল তা তোমার নয়, আজ সে আমারই-

অধিকার এমন কিছু, যা আমার ছিল আজ তাই তোমার তরে

অধিকার বলেই- পাওয়ার বা দেয়ার অধিকার দেয়, অকাতরে।

 

খোলা আকাশকে কখনো ভেবে না দৃষ্টিহীন, সঙ্গীহীন

তেমনি শান্ত সমুদ্রকে ভেবনা পৃথিবীর সুখী একজন;

আকাশ ভেঙ্গে পাতাল পুরে তারাও মনের কথা বলে যায়

কখনো সর্বনাশী ঝড় অথবা সুখের বৃষ্টি হয়ে মধুরণ।

 

চার.

আমার ভালোলাগা প্রিয় শব্দ ক’টিইবা আছে বল মুগ্ধতা ?

মুখ ফোটার আগেই বুঝে নাও সব কি আশ্চর্য নারী তুমি !

 

একদিন চাপা কণ্ঠে বড্ড আপসোষ করে বলেছিলে-

আমার পৃথিবীটা অনেক ছোট, দেখা হয় নি অনেক কিছুই

দূরের কোন ভিন দেশী গাঁ, হয় নি ঘুরে দেখা চক্ষু মেলে।

 

মুগ্ধতার সে উচ্চারিত অপ্রিয় কথাগুলো ধীরে ধীরে আজ

প্রিয় হয়ে উঠে- তাইতো আমার সমস্ত আবেগ, কারুকাজ

শক্তি দিয়ে কল্পিত স্বপ্নে উড়ে চলি ভেসে বেড়াই দিবানিশি

যদি তুমি চাও ইচ্ছে বনে- সফর সঙ্গী তুমিই না হয় হলে,

চলে যাবো তোমায় নিয়ে নীল দিগন্তের অপারে উড়ে

যতদূর দৃষ্টি যায়, যাবো তার সাথে- এর চেয়েও বহু দূরে।

 

ইচ্ছে হলেই দেখে আসবো চোখ ধাঁধানো প্রেমের তাজমহল,

মিশরের পিরামিড, জর্ডানের নাবাতেন, চীনের সুউচ্চ-প্রাচীর

আঙ্কর শহর, রাশিয়ার সেন্ট বাসিলের সুরম্য ক্যাথেড্রাল।

লিবার্টি স্ট্যাচু, আইফেল টাওয়ার, ভার্সাইয়ের রাজ নগর

ইতালির ভেনাস খাল আর জার্মানির নেয়োচূয়্যানষ্টেন প্রসাদ,

মুগ্ধতা, আমি ক্লান্ত ও ধৈয্য হারাবো না, যদি তুমি পাশে থাক।

 

মুগ্ধতা আশ্চর্য হলে বুঝি! আমার ভাবনা দেখে আশ্চর্য হবে না,

আশ্চর্য হবে তুমি মানুষের সেরা সৃষ্টি দেখে, আমি অতি নগণ্য

জেনো, ওখানেই খুঁজে পাবে আমায়, আমিই তোমার প্রেমের অরণ্য।

গ্রন্থ: শুধু মুগ্ধতার জন্য