আ.বিমা মানুষের জয় হোক,
আ.বিমা মানুষেরা পথ দেখাবে, নতুন পথের,
গারো জাতির অগ্রদূত হয়ে উঠুক আ.বিমা
এক.
অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম, মধুপুর গড়াঞ্চলে বসবাসরত গারোদের বিপ্লবী পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে কিনা! হ্যাঁ, অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। আবার ভাবছিলাম, সমান্তরালভাবে সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিনা! হ্যাঁ হচ্ছে (বহুলাংশে)। আগে কোথায় কি হয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবছি না। অতীত নিয়ে গল্পের সময় নেই। এই ক’বছরের কথা বলছিলাম। এই বর্তমান সময়ে, বর্তমান জামানায় কী হচ্ছে, কী হবে, কী আবিষ্কার হলো কিংবা কি হতে যাচ্ছে, সেটা ভাবনায় ফেলে দেয়। এই আ.বিমার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে আমি সবসময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেন না, উদাহরণ দেওয়ার মত অনেক কিছুই তৈরি হয়েছে। সেই উদাহরণগুলোই একটু সংক্ষিপ্তাকারে বিশ্লেষণের চেষ্টা করি।
মধুপুর উপজেলায় গারোদের জনসংখ্যা ১৭,৩২৭ জন (SEHD Survey 2018)। হয়তো ২০-২৫ হাজার হবে। পাঁচটি ইউনিয়নে গারোদের সর্বাধিক বসবাস যেমন- শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, কুড়াগাছা, বেরীবাইদ এবং অরণখোলা ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নগুলোতে বর্তমানে কোন গারো চেয়ারম্যান নেই, তবে সংক্ষিত মহিলা মেম্বার ও মেম্বার মিলে ১২জন মেম্বার। বড় রাজনৈতিক দলেও গারোদের পদচিহ্ন রয়েছে। আবার জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এশোসিয়েশন, আ.চিক মিচিক সোসাইটি, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ইত্যাদি সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়াও গারোদের ছোট ছোট সমিতি, বাইং সমিতি, ক্রেডিট ইউনিয়ন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানপাট তো রয়েছেই।
দুই.
গত ৩১ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায়, বনবিভাগ কর্তৃক আদিবাসীদের বাসভূমিকে জাতীয় উদ্যান ও তথাকথিত সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করে ভূমি উদ্ধারের নামে অধিবাসীদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মহাসমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি জলছত্র ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে মধুপুর উপজেলায় আদিবাসী মানুষের বিশাল সমাগমের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন এবং মহা সমাবেশের দু’টো জায়গাতেই থাকার সৌভাগ্য হয়। এই মানববন্ধন ও মহাসমাবেশ আমার কাছে খুবই তাৎপর্যময় দিন ছিল। কেন না, গারোদের/আদিবাসীদের উপস্থিত ছিল কল্পনাতীত। এছাড়াও মাংরুদাম রক্ষায় আদিবাসী গারো জনতা আন্দোলন করে। দোখলা ও চুনিয়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে আমতলী বাইদ নামক স্থানে ৪৫ বিঘা জমি আছে। এ জমি ১৩ জন গারো জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বংশপরম্পরায় চাষাবাদ করছেন। কিন্তু সরকার এখানে লেক করতে চাইছে। গারো জনগণ তা মানবে না। তাই ২৫ এপ্রিল’২২ খ্রিষ্টাব্দে দোখলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেটা নিয়ে আন্দোলন এখনও চলমান। সেটার প্রতিবাদে ‘শালবনের চিৎকার’নামে ৯ সেটেম্বর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে, আমলীতলা খেলার মাঠে (মধুপুর, টাংগাইল) কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ৪ অক্টোবর ২২ খ্রিষ্টাব্দে ‘কালের কন্ঠ’ দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কথা প্রতিবেদনে বলেছে। তাদের বাড়িতো আ.বিমাতেই। সুতরাং আ.বিমা (মধুপুর) এক সংগ্রামময় জায়গা। সংগ্রাম আন্দোলন করেই এখানকার মানুষজন বেঁচে আছে।
তিন.
আ.বিমাতে ইতোমধ্যে শুরু হচ্ছে উৎসবের আমেজ। সেটেম্বর’২২ থেকে শুরু হয়ে ফ্রেবুয়ারি’২৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন উৎসব চলবেই। ক’দিন আগে মাত্র বিভিন্ন জায়গায় সাংসারেক ধর্মবলাম্বীদের ‘রংচুগাল্লা’ সম্পন্ন হলো। বলে রাখা ভালো, বর্তমানে শুধু মাত্র আ.বিমাতেই গারোদের সাংসারেক ধর্মবলাম্বীদের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ও নিজস্বতা রক্ষা করে চলছে। রংচুগাল্লা শেষ হতে না হতেই সাংসারেক ধর্মবলাম্বীদের গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ওয়ানগালা’ শুরু হচ্ছে। কিছুদিন আগে ক’টি গ্রামে ওয়ানগালা শেষ হলো। আবার ৪ নভেম্বর ২২ খ্রিষ্টাব্দে ‘আ.বিমা ওয়ানগালা’ নামে আমলীতলা খেলার মাঠে প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন হবে। সেক্ষেত্রে সাংসারেক ধর্মবলাম্বীদের বড় ধরনের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ‘আ.বিমা ওয়ানগালা’শেষ হতে না হতেই ১১ নভেম্বর’২২ খ্রিষ্টাব্দে সাইনামারি গ্রামে দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে ‘আ.বিমা ফেস্টিভাল’। ফলত, উৎসবের আমেজ শেষ হবার নয়। হয়তো সামনে আরো নতুন কোন প্রোগ্রাম আসছে!
চার.
আ.বিমা নামকে ঘিরে অনেক প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের কার্যক্রম ধারা অব্যাহত রয়েছে। যেমন- আ.বিমা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার, আ.বিমা আর্ট স্পেস, আ.বিমা ফাউন্ডেশন, আ.বিমা সমবায় সমিতি, আ.বিমা আদিবাসী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: ইত্যাদি।
এই যে ক’বছরে এত কিছু হচ্ছে, সামনে হবে, তবুও কী আমাদের দ্বিধাবোধ কাজ করবে যে, পরিবর্তন হচ্ছে না? দ্বিধাবোধের প্রশ্নই আসে না। আ.বিমার মানুষেরা আপনা আপনি দ্রুত গতিতে পরিবর্তন হচ্ছে, পরিবর্তন করছে।
আ.বিমা মানুষের জয় হোক,
আ.বিমা মানুষেরা পথ দেখাবে, নতুন পথের,
গারো জাতির অগ্রদূত হয়ে উঠুক আ.বিমা।
জাডিল মৃ
শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।