আ.বিমা টাইমস নিউজ ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও জেলায় সদর উপজেলার কালেশ্বরগাঁও গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের আদিবাসী জগদীশ চন্দ্র বর্মনের পরিবারের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। আজ মঙ্গলবার অনুমানিক সকাল ১১টায় ঐ পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলাটি করে আশরাফুল ইসলাম সহ ৭ – ৮ জনের একটি দল।
ঘটনার এক বিবরণে জানা যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মনের নিজের জমিতে লাগানো বাঁশ জোড়পুর্বক কেটে নেয়া ও জমি দখলের সময় বাধা প্রদান করলে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জগদীশ চন্দ্র বর্মনের পরিবারের উপর হামলা করে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয় জগদীশ চন্দ্র বর্মনের স্ত্রী করুনা রাণী (৪৫), বৃদ্ধা মা নিশি বালা (৮৫) ও তার ছেলে অপু বর্মন (২০)। আহতরা বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গুরুতর আহত জগদীশ চন্দ্র বর্মনের স্ত্রী করুনা রাণী (৪৫)
এ ব্যাপারে ‘বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মন সংগঠন’ এর সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও ‘বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন’ এর ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক জনাব মৃত্যুঞ্জয় বর্মন আপেল জানান, ‘ক্ষমতা ও জোড় খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আসামীরা সাম্প্রদায়িকভাবে উষ্কানি সৃষ্টি ও ভিক্টিমের জমি ও বাঁশ বাগান দখল করার চেষ্ঠা চালিয়ে আসছিল। আজ দলবল নিয়ে জমি বেদখল ও বাঁশ কেটে নেয়ার সময় বাধা প্রদান করায় পরিবারটির উপর হামলা করেন। আমরা আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।‘
এদিকে ‘বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মন সংগঠন’ এর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি পরিমল চন্দ্র বর্মন জানান, ‘আমাদের পরিবারটির উপর যা হয়েছে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়ার মত না। আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসনের সাথে বিস্তারিত কথা বলেছি এবং প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার না হলে, আমরা আমাদের সংগঠন থেকে কঠিন কর্মসূচী ঘোষণা করবো।‘
উক্ত ঘটনায় জগদীশ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে আশরাফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নামে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।
মামলার বিবরণীতে তিনি উল্লেখ্য করেন, দীর্ঘ দুই-তিন মাস ধরে আসামীরা জগদীশ চন্দ্র বর্মনের পরিবারের উপর অহেতুক অত্যাচার, নিপীড়ন, এবং নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। এছাড়াও গত ৫ই মার্চ, ২০২১ এ জগদীশ চন্দ্র বর্মনের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানেও আসামীরা বাধা দেয়, এবং বিয়ে অনুষ্ঠানে ঝামেলা সৃষ্টি করেন। অতঃপর আজ ১৬ই মার্চ, ২০২১ আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে আসামিরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে জগদীশ চন্দ্র বর্মনের জমি দখল ও বাঁশ কেটে নেওয়ার চেষ্ঠা চালায়। এতে বাধা প্রদান করলে আসামীরা দলবল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঐ পরিবারের উপর হামলা চালায়। ঘটনার এক পর্যায়ে নেন্দ বর্মন, ফুলফুলি রাণী, এবং আবুল কালাম আজাদ সহ স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে আসামীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থান ত্যাগ করে যাওয়া সময় সর্বসমক্ষে এই বলে হুমকি দেন যে, ‘আজকে তোমরা প্রাণে বেঁচে গেলা, আরেকদিন সুযোগ পেলে তোমাদের কুপিয়ে হত্যা করে মাটির ভিতর পুতে রেখে যাবো।‘ (তথ্য: বকুল চন্দ্র বর্মন, টাঙ্গাইল)