লিয়াং রিছিল, মধুপুর: মধুপুরে বাসন্তী রেমার কলা বাগান কর্তনকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ শে সেপ্টেম্বর ২০২০) দুপুর ১২ টায় বিক্ষুব্ধ আদিবাসী জনতার আয়োজনে দোখলা রেস্ট হাউজে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আদিবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত মোতাবেক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত বাসন্তী রেমাকে একটি ঘর করে দেওয়া হবে। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।” এডিসি বলেন, “আদিবাসীদের ফসলি জমিতে সামাজিক বনায়নসহ কোন কিছু করা হবে না; যা কিছু করা হবে অবশ্যই আদিবাসীদের সাথে আলোচনা করেই করা হবে।”
এছাড়াও তরুণ ছাত্র নেতা অলিক মৃ বলেন, “এই প্রতিশ্রুতি তখন সত্য বলে মানবো যখন এগুলো বাস্তবায়ন হবে। অন্যথায় আমরাও প্রস্তুত রয়েছি প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।” এ প্রসঙ্গে তরুণ ছাত্র নেতা জন যেত্রা আরও বলেন, “এমন আশ্বাস এর আগেও অনেক দেওয়া হয়েছে কিন্তু বাস্তবে সেটি করা হয় না বরং উল্টো কাজ করেন বন বিভাগ, তাই হুশিয়ার দিয়ে বলছি ভবিষ্যতে অতীতের মত যদি মিথ্যা আশ্বাস কিংবা প্রতারণা করা হয় তবে আদিবাসীরা দূর্বার আন্দোলন করা হবে।”
বৈঠকে গারো আদিবাসী নেতাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসন্তীকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু ১৫ হাজার টাকা এবং শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন ৫ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নগদ প্রদান করবেন বলে বৈঠকে জানানো হয় ।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সার্কেল এসপি, ওসি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, TWA এর সভাপতি উইলিয়াম দাজেল, মৃ, হেলিন যেত্রা, রিচার্ড বিপ্লব সিমসাং, হেরিত সিমসাং এবং অন্যান্য সংঠনের ছাত্র নেতা লিয়াং রিছিল, অনন্ত ধামাই, টনি চিরানসহ প্রমূখ।