স্ট্রবেরি একটি ফ্র্যাগারিয়া জাতীয় উদ্ভিদ। যাকে ইংরেজিতে Fragaria বলে; তবে সাধারণত এটি Strawberry নামে অধিক পরিচিত। সারা বিশ্বে এটি ফল হিসেবে চাষ করা হয়। ছোট আকারে লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি দেখলে জিভে জল এসে যায়; লোভ সংবরণ করা দায়। এতে ক্যালরির পরিমাণ বিস্ময়করভাবে কম। কিন্তু এর পুষ্টিমান আবার অনেক বেশি। সুগন্ধি এ ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর ভিটামিন সি থাকে। পুরো এক কাপ স্ট্রবেরিতে মাত্র ৫০ ক্যালরি! এছাড়াও ফলের গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে যা সত্যিই আকর্ষণীয়। স্ট্রবেরী ফলের রস, জ্যাম, আইস ক্রীম, মিল্ক শেক এবং আরও অনেক খাদ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন শিল্পায়িত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরীর সুগন্ধ ব্যবহৃত হয়।
কেউবা মনে করেন স্ট্রবেরির আদি বাস ইতালির রোমে। তবে আঠারো শতকের শেষের দিকে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে সর্বপ্রথম স্ট্রবেরীর চাষ করা হয়। দারুণ স্বাদ আর নানা উপকারিতার জন্য দ্রুত ফলটির কদর ছড়িয়ে পড়ে সারা ইউরোপে। এটি পরবর্তীতে চিলি, আর্জেন্টিনা এবং কালক্রমে অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সে স্ট্রবেরিকে বিশেষ কদর করা হয়।
পৃথিবীর অনেকে দেশে স্ট্রবেরি চাষ এবং বাজারে পাওয়া য়ায়। এমন কী বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে এ ফল। বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে ও বেশি দিন থাকে সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি চাষ করা হচ্ছে। স্ট্রবেরির পাকা ফল টকটকে লাল রঙের হয়। এ ফলটি সুগন্ধীযুক্ত, টক মিষ্টি স্বাদের।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির পাশাপাশি টব, বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় এ ফল চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, যশোর, শ্রীমঙ্গল, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে স্ট্রবেরি চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যবসা শুরু করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি; কেবল রূপে ও স্বাদেই নয়, রূপচর্চা ও স্বাস্থ্যচর্চাতেও এই রসাল ফল দারুণ উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-৫, বি-৬, ভিটামিন সি এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্টসমৃদ্ধ ফলটি দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর। আবার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো, ত্বকের বলিরেখা দূর করা, চুলপড়া রোধ বা চুলের রুক্ষ ভাব দূর করা, দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করার মতো ত্বকচর্চাতেও স্ট্রবেরির কদর অনেক। দই, জুস, জ্যাম, মিল্কশেক, আইসক্রিম ছাড়াও বিভিন্ন রকম কেকে ব্যবহার করা হয় এটি। এছাড়াও দইয়ের সঙ্গে, সালাদে, জুসে, এমনকি সালসা তৈরি করে খেতে পারেন স্ট্রবেরি। আপনি আপনার রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে।